জিসান সম্রাটকে ১০ কোটি টাকা করতে বলে

জিসান সম্রাটকে ১০ কোটি টাকা করতে বলে

বেঙ্গল ডেস্কঃ
বাইরে থেকে সবাই জানতো যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং খালেদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব। কিন্তু ভেতরের অবস্থাটা ছিল একেবারেই উল্টো। সম্রাট এবং খালেদের মধ্যে গোপন শত্রুতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক ডন জিসানের সঙ্গে মিলে সম্রাটকে হত্যাও করতে চেয়েছিল খালেদ। বন্ধুত্বের মুখোশ পরে শত্রুতার এ গল্পটা এতটাই চাঞ্চল্যকর যে, সেটা যেকোনো হিন্দি সিনেমাকেও হার মানায়।

আন্ডারওয়ার্ল্ডে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা আর চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য দখল নিয়েই মূলত এই শত্রুতার শুরু। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ৩০টি ক্যাসিনোসহ ঠিকাদার ও ভবন নির্মাণে যুবলীগের নেতা সম্রাটের মাসে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হতো। এই বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজির একটা বিরাট অংশের প্রতি টার্গেট ছিল বিদেশে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের। এদের মধ্যে দুবাইয়ে আত্মগোপন করা জিসান (সম্প্রতি গ্রেপ্তার), রনি এবং ভারতে আত্মগোপন করা শাহাদত, আশিকও ছিল। রাজধানীর বাড্ডা, মতিঝিল, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, মগবাজার ও খিলগাঁও এলাকার চাঁদাবাজির একটি বড়ো অংশ জিসানের কাছে পৌঁছে যেত। কিন্তু ধীরে ধীরে সম্রাটের চাঁদাবাজির সাম্রাজ্যের দিকেও হাত বাড়ায় সে।

সম্রাটের ঘনিষ্ঠরা বলছে, সম্রাট প্রতিমাসে জিসানকে ১০ লাখ টাকা দিত। কিন্তু গত বছর জিসান সম্রাটকে সেটা বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করতে বলে। কিন্তু এই প্রস্তাবে বেঁকে বসে সম্রাট। এ নিয়ে সম্রাটের সঙ্গে তার শত্রুতার শুরু। জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে জিসানের সঙ্গে সম্রাট ও খালেদের বৈঠক হয়। খালেদ প্রকাশ্যে সম্রাটের পক্ষে থাকলেও গোপনে সে জিসানের হয়ে কাজ করছিল। ম্যারিনা বে’র বৈঠকে সম্রাটের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে জিসান। সম্রাট জানায়, সে এখন রাজধানীর ডন। তিনি কাউকে চাঁদা দিতে পারবে না। এমনকি মাসের ১০ লাখ টাকা চাঁদা পাঠানোও বন্ধ করে দেয় সম্রাট। এরপরই শুরু হয় সম্রাটকে খুনের পরিকল্পনা। গত এপ্রিলে দুবাইয়ে জিসান-খালেদ বৈঠক হয়। সেখানে সম্রাটকে হত্যা করার গোপন ছক কাটা হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বান্দরবান থেকে খালেদ পাঁচটি একে-২২ রাইফেল ঢাকায় আনে। কিন্তু গত জুনে এই রাইফেলের মধ্যে দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। সেসময় চারজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এটাই প্রাণে বাঁচিয়ে দেয় সম্রাটকে। সেসময় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোয়েন্দারা পুরো বিষয়টি জানতে পারে। খুব দ্রুতই বিষয়টি সম্রাটের কানেও পৌঁছায়।

সম্রাটের ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছে, সম্রাটকে যে জিসান হত্যার পরিকল্পনা করছে এটা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন সম্রাট। মূলত এ কারণেই সে চলাফেরায় অনেকটা গোপনীয়তা নিয়ে আসে। তাকে বহন করা গাড়ির আগে ও পেছনে অন্তত ছয়টি গাড়িতে ক্যাডার নিয়োজিত করা হয়। এসব ক্যাডারের কাছে ২০-২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকতো বলেও জানা গেছে।

বাংলা ইনসাইডার

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme