কে পাচ্ছে শান্তিতে নোবেল?

কে পাচ্ছে শান্তিতে নোবেল?

বেঙ্গল ডেস্কঃ
আর মাত্র একটা সপ্তাহ। এরপরই নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ঘোষণা করা হবে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ীর নাম। চলতি বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হচ্ছে আগামী সোমবার অর্থাৎ ৭ অক্টোবর থেকে। তবে নোবেলের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ক্যাটাগরি অর্থাৎ শান্তি পুরষ্কার দেওয়া হবে ১১ অক্টোবর। শান্তির নোবেলের জন্য এ বছর মনোনয়ন পেয়েছে ২২৩ জন এবং ৭৮টি প্রতিষ্ঠান। নোবেল কমিটি যেহেতু মনোনয়ন তালিকাটা আগে থেকে প্রকাশ করে না, তাই এই পুরষ্কার ঘিরে ফিসফাসের মাত্রাটা একটু বেশিই থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে যাদের নাম বাতাসে ভেসে ভেড়াচ্ছে তাদের নিয়েই এই প্রতিবেদন।

গ্রেটা থুনবার্গ

এ বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী হিসেবে যার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে তিনি হলেন ১৬ বছরের অগ্নিকন্যা গ্রেটা থুনবার্গ। ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ নামে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলেছে এই ছোট্ট মেয়ে। বিশ্বখ্যাত জুয়ারি প্রতিষ্ঠান ল্যাডব্রোকেস বলছে, এ বছর শান্তির নোবেলের জন্য সবাই গ্রেটা থুনবার্গেরই নামেই বাজি ধরছেন সবাই। গ্রেটা সম্প্রতি দুটি পুরস্কার পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকারবিষয়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে গ্রেটাকে। এ ছাড়া সুইডেনের বিকল্প নোবেলখ্যাত ‘২০১৯ রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছে সে। পরপর দুটি পুরষ্কার পাওয়ায় নোবেলের জন্যেও গ্রেটাকে নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। কিন্তু পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলোর হেনরিক উরডাল ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এ বছর গ্রেটার নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

আবি আহমেদ

এবার শান্তিতে নোবেলের জন্য আবি আহমেদের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে সেটা গ্রেটার মতো অতটা নয়। আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তার প্রচেষ্টাতেই ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার বহু পুরোনো বৈরিতার অবসান ঘটেছে। পুরো দুটো দেশ ও জাতিকে এক সুতোয় গাঁথার জন্য আবি এবার নোবেল পেতেই পারেন।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস

গত বছর সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সারাবিশ্বে সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিশ্বের কোনো দেশেই যে সাংবাদিকরা নিরাপদ নন, সেই তথ্যটা গত এক বছরে আরও প্রকটাকারে উঠে এসেছে। সারাবিশ্বকে এই তথ্যগুলো জানাচ্ছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস। কোনো সীমারেখাকে পরোয়া না করে সারাবিশ্বের সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করছেন তারা। এজন্য ধারণা করা হচ্ছে যে, এবার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস নোবেল পেতে পারে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট

সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করা আরেকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন হলো কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট। শান্তির নোবেলের মনোনয়ন তালিকায় এবার তাদের নামও আছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। নিউইয়র্কভিত্তিক এ সংগঠনটি ১৯৮১ সাল থেকে সাংবাদিকদের রক্ষায় কাজ করছে। পেশাগত কাজে সাংবাদিকরা যেন কোনো বাধার সম্মুখীন না হয় সে জন্যেও কাজ করছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট।

এছাড়াও স্বল্প পরিচিত কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম নিয়েও টুকিটাক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের শান্তির নোবেল কার দখলে যায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme