হারিয়ে যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহী লাঠিম খেলা

হারিয়ে যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহী লাঠিম খেলা

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪:
শিশু-কিশোরদের এক সময়ের খেলার মধ্যে অন্যতম ছিল লাঠিম খেলা। অথচ সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য গ্রামীণ খেলাধুলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহী লাঠিম খেলাটি যেন আজ সময়ের পথপরিক্রমায় হারিয়ে গেছে।

বিগত দিনের গ্রামীণ শিশু-কিশোররা যে বয়সে খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকতো ডিজিটাল এই যুগে এখন সে বয়সে তারা যান্ত্রিক খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকে। এতে তারা ক্রমেই হয়ে উঠছে অলস ও হিং¯্র। আগের দিনের পাড়া মহল্লার শিশু-কিশোররা দল বেঁধে গ্রাম্য খেলায় বিশেষ করে লাঠিম খেলায় মেতে হারিয়ে যেত আপন ভূবনে। অথচ বর্তমানে ওই বয়সের শিশু-কিশোররা এখন গ্রাম্য খেলাধুলা (লাঠিম) বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমস, ভিডিও গেমস খেলাধুলা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

আধুনিকতা আর পাশ্চাত্যের ঢং যেন গ্রাস করে ফেলেছে আমাদের। নব্বইয়ের দশকে গ্রাম বাংলায় যে সকল খেলার প্রচলন ছিলো, এখনকার গ্রামের ছেলে মেয়েগুলো সেগুলো আর খেলতে চায় না। তারা এখন সভ্য হয়েছে। তাই সেই ছোট বেলার খেলাগুলো হারিয়ে ফেলেছি আমরা।

যে খেলা গুলো আমাদের শরীর চর্চাসহ বিনোদন এনে দিত। বর্তমান সভ্য সমাজে খেলাধুলার কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে বা মাথায় যে খেলার নাম চলে আসে, সেটা হয় ক্রিকেট নয়ত ফুটবল খেলার নাম। এটা যদিও শহরের ছেলেমেয়ে এবং পিতা -মাতার দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু গ্রামও আজকাল আর পিছিয়ে নেই। তাদের মধ্যেও এই ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটেছে ভালোভাবেই।

এই উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ লাঠিম খেলাকে ভালোবাসতো কিন্তু কালের বিবর্তনে যুগের গতানুগতিক হওয়ায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লাঠিম খেলা আজ হারিয়ে গেছে। সরোজমিনে বুধবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা ঘুরে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে গিয়ে লাঠিম খেলার দৃশ্য চোখে পড়লে লাঠিম খেলার দৃশ্যের স্থির চিত্র ধারণ করি।

এ সময় কথা অপূর্ব (৭) বছরের এক কিশোরের সাথে সে অত্যন্ত মিষ্টি ভাষায় এই প্রতিবেদককে জানায়, আমি প্রথম শ্রেণীতে পড়ি। লেখাপড়া ও অন্যান্য খেলাধুলার ভীড়ে লাঠিম খেলা এখন আর হয়ে উঠে না। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ লাঠিম খেলবো। একই কথা বলে অপর কিশোর জাকির হোসেন। সে আরো জানায়, ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা ছাড়া লাঠিম খেলার জন্য সঙ্গী পাওয়া যায় না। অনেক দিন পর আজ লাঠিম খেলছি ভীষণ ভালো লাগছে। শিশুদের এই লাঠিম খেলা আনন্দের সহিত উপভোগ করছিলেন উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার বাসিন্দা রমিজউদ্দিন নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। তিনি প্রতিবেদক বলেন, আমার ওই শৈশবের প্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল এই লাঠিম খেলা। আহা মনে হয় এই তো সেই দিন এদের মতো আমি আমার বন্ধুদের সাথে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাঠিম খেলেছি।

এখন সবই অতীত! আমি যত টুকো মনে করতে পারি আমার অনেক গুলা লাঠিম ছিল নানা রং বে রং এর। নুরু কাকার দোকান থেকে ১ টাকা কোন কোন সময় ২টাকা দিয়ে কিনতাম লাঠিম আর সাথে লাল রঙের ফিতা। বাড়ির কাছে কয়েকটা পিচ্ছি লাঠিম খেলতাছে তাই আইলাম খেলা দেখতে। লাঠিম খেলার বিষয়ে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি কলামিষ্ট ও গবেষক মীর আব্দুল আলীম বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme