বার মালিক গাজী মুক্তার একজন কুলাঙ্গার- প্রেস ক্লাব সভাপতি

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪
শুক্রবার ওলামা পরিষদের একটা ব্লু পিয়ার মদের বার “ঘেরাও কর্মসূচি” আছে । সাংবাদিকদের একটা চ্যালেঞ্জিং জব ছিলো। বারের মালিক গাজী মুক্তার একজন কুলাঙ্গার। তার আরো দুইটা মদের বার আছে ঢাকায় এবং কুমিল্লায়। সে একটা সিন্ডিকেট চক্র করে নারায়নগঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ব্যবস্থা করে সবচেয়ে বড় অভিজাত পরিবার “প্যারাডাইজ” পরিবার এর ভিতরে একটা ক্যাসিনো ও নাচগানের ব্যবস্থা সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ বার চালু করার পায়তারা করেছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূর উদ্দিন আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদন মো. নাসির উদ্দিন মন্টু’র সঞ্চালনায় সংগঠনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসু।

তিনি বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলার কমিটির মিটিংয়ে বলেছিলাম, এটা কিভাবে সম্ভব? এ লাইসেন্স কে দিলো? নারায়ণগঞ্জ এর কেন্দ্রীয় মসজিদ বলা যায় “নুর মসজিদ” তার পাশে প্রেস ক্লাব গণমাধ্যম কর্মীদের তীর্থভূমি, ইসলাম হার্ট সেন্টার এই অবস্থায় কে এই লাইসেন্সটা দিলো? ডিসি সাহেব ও এসপি সাহেব অজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং বললেন আমাদের, এটা নাই। আমরা জানলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর আঞ্চলিক পরিচালক অনুমোদিত দিয়েছে সমাজের রাঘব বোয়ালদের নির্দেশে। আমরা সেদিন স্পষ্ট করে বলেছিলাম, কোন অবস্থাতেই আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা মাদকের এই আখড়া চলতে দিবোনা।

এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরো বলেন, অনেক নাটকীয়তার পর যাদেরকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলাম আমরা পিছনে ফিরে তাকিয়ে তাদের অনুপস্থিতি পাই। তাদের অনুপস্থিতির কারণ আপনারা ভালো করে জানেন ও বুঝেন। একটা চক্র তারা প্রতিষ্টা করবেই। পরবর্তীতে আমরা আবার বলেছি এবং ঘরোয়া পরিষদ, নারায়ণগঞ্জবাসি ও নাগরিক কমিটি পত্র দিয়েছে ডিসিকে। ডিসি সেই মোতাবেক কাজ করেছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সকলেই এর প্রতিবাদ করেছি। যার ফলস্বরূপ গতকাল মাদকের ডিজি মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক এসেছিলো এবং সেই স্থানেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে এই বার বন্ধ করা হোক। পরবর্তীতে ডিসি সাহেব সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় বলেছেন, বারটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। আনোয়ার সাহেব যে শঙ্কা প্রকাশ করলেন, লাইসেন্স হস্তান্তর করা হয়নি। আমরা আশা করছি আজকের মধ্যেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে। আর যদি না করা হয় আমরা অনড়, এখানে কোনো অবস্থাতেই বার চলতে দিবোনা। যে কারণে আমাদের “আমরা নারায়ণগঞ্জবাসির” জন্ম, নারায়ণগঞ্জ এ গ্যাস সংকট, শীতলক্ষ্যা নদীর নাব্যতা নাই, ওয়াসার দূষিত পানি অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জে যত নাগরিকসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা থেকে রেহাই পেতে সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের প্রতি চাপ দেওয়ার জন্য এর জন্ম।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনে যে ডিসি এসপি আসে তারা অনেক শঙ্কা নিয়ে আসে কিন্তু তারা আসার পর খুব খুশি হয়ে যান। কারণ আমরা খুব তোষামোদকারি। তারা মনে করে নারায়নগঞ্জে যা খুশি তা করা যায়। তিনি জনপ্রতিনিধিদের আহবান করে বলেন, এই যে মাদকের আখড়া শুরু হয়েছে তারা কোনো প্রতিবাদ করেনি। আন্দোলন করেছে গণমাধ্যম কর্মীরা, বিভিন্ন সামজিক সংগঠনগুলো।

প্রেস ক্লাব সভাপতি বলেন, সাত খুনের মামলায় আমরা যদি বাদী না হতাম এবং কামাল হোসেন আমাদের পক্ষে না দাঁড়াতেন তাহলে র‌্যাবের কর্মকর্তারা গ্রেফতার হতোনা এবং এই খুনের আসামীকে কখনোই ধরা হতো না।এই কৃতিত্বের অনেকটা অংশ “আমরা নারায়ণগঞ্জবাসির”। তিনি ত্বকী হত্যা, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, ক্যান্টনমেন্টের ভিতর তনু হত্যা সম্পর্কে অবহিত করেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসার আহবানা দেন। নারায়ণগঞ্জ এ সন্ত্রাসী, গডফাদার, মাদকের কোনো স্থান নেই। যদি এর জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে হয় তাতেও কোনো কুন্ঠাবোধ নেই। তবেই আমাদের নারায়ণগঞ্জ বাসীর নিকট দায়বদ্ধতা দূর হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন। এবিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, আমারা নারায়ণগগঞ্জবাসী সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কুতুব উদ্দিন আকসির।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর মহিলা শাখা সভাপতি নারী নেত্রী আনজুমান আরা আকসির, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য যথাক্রমে এড.মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বিষের বাঁশী সম্পাদক সুভাষ সাহা, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. নবী হোসেন, উপদেষ্টা ডাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান উল রশিদ, মাদক বিরোধী আন্দোলনের নেতা মোঃ বদরুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মতিউর রহমান, সংবাদচর্চা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আনোয়ার হাসান, মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু প্রমুখ।