নতুন বই পেলেও শিক্ষার্থীরা পায়নি বসার বেঞ্চ!

লিড শিক্ষা

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪
ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন জবুথবু হয়ে পড়েছে। কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে নারায়ণগঞ্জ সহ আলীরটেক ইউনিয়নের দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষ। তবে তমুল শৈত্যপ্রবাহকে অপেক্ষা করে আলীরটেক ইউনিয়ন সংলগ্ম ১১৮ নং পুরান গোগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা ফ্লোরে বসে ক্লাস করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে অবস্থিত ১১৮ নং পুরান গোগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘ দিন ধরে ফ্লোরে বসে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি অনুসরণ করলে বিদ্যালয়টি ঠিক ততটা অগ্রগিত করতে সক্ষম হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আসন সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই পাঁকা ফ্লোরে বসে শিক্ষা গ্রহন করতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। বর্তমানে বিদ্যাপিঠটিতে যে পরিমাণ আসন রয়েছে তার প্রত্যেকটি বেঞ্চে ৩ জন বসতে পারলেও গাদাগাদি করে ৫ জন বসাতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

অভিভাবকদের অভিযোগ বছরের শুরুতে ছাত্র ছাত্রীরা নতুন বই পেলেও পড়ার জন্য টেবিল বেঞ্চ পায়নি। একটি শ্রেণী কক্ষে ৪টি টেবিল আছে। তার মাঝে দুটি টেবিলে লোহার উপরে কাঠের অংশ নেই।

অভিভাবকরা আরো বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা অনেক কষ্ট করে এখানে পড়ে। তারা বসার জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ টেবিল পায়না। সন্তানদেরতো পড়াতে হবে। তাই কষ্ট হলেও এই শিতের মাঝে তাদেরকে স্কুলে দিয়ে জাই। আমরা চাই এই ছোট ছোট শিশুরা লেখা পড়া করে বড় কিছু হউক।

স্থানীয় বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, আমার সন্তান ২য় শ্রেণীতে পড়ে। আমাদের তেমন অর্থ সম্পাদ নেই। গরিব বলেই সরকারি স্কুলে পড়াই। এই বিদ্যালয়ে এসে আমার সন্তানকে ঠান্ডা ফ্লোরে বসে ক্লাস করতে হয়। শ্রেণী কক্ষে টেবিলের সংকট। মাত্র ৪ টেবিল আাছে। যারা আগে আসে তারাই ওই খানে বসতে পারে। আর এই কয়টা টেবিল দিয়ে কি আর হয়। প্রত্যেকটি শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ জন। স্যারদেরকে বললে তারা বলে টেবিল আসবে। কিন্তুু কবে আসবে তারা তা জানেনা। দুই বছর যাবৎ কষ্ট করে আমাদের ছেলে মেয়রা ক্লাস করছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, ৬ মাস আগে সদর উপজেলা থেকে শিক্ষা অফিসার এসে আসবাব পত্রের তালিকা নিয়ে গেছেন। তারা বলছে তারাতারি টেবিল বেঞ্চ দিবে। কিন্তু কবে দিবে তা বলেনি। আমরাও বেঞ্চ আনার চেষ্টায় আছি। নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীদের ফ্লোরে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল হক বলেন, নতুর ভবন হলে এটা সেন্ট্রাল থেকে দেয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে অথবা তারা নিজেরা উপজেলায় আবেদন করলে উপজেলা থেকে সহযোগিতা পাবেন। তাদেরকে উপজেলায় একটা আবেদন করার জন্য তিনি আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *