লাখো লোকের স্বপ্ন দেখলেও সমাবেশে এসেছে ৫ হাজার মানুষ!

লাখো লোকের স্বপ্ন দেখলেও সমাবেশে এসেছে ৫ হাজার মানুষ!

নারায়ণগঞ্-৪ আসনের সাংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান।

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪:
সমাবেশের আগে বলেছিলেন, ‘লাখো লোকের সমাগম হবে। সেদিন যেন মানুষ খানপুর পর্যন্ত বসার জায়গা না পায়।’ তবে শামীম ওসমানের সে আকাঙ্খা বাস্তবে রূপ নেয়নি। শনিবার তার সমাবেশে স্মরণকালের সবচেয়ে কম লোক হয়েছে বলে মনে করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। গোয়েন্দা সূত্রও একই কথা বলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগের মতো মানুষ ও নেতাকর্মীদের কাছে টানার সেই সুর আর শামীম ওসমানের কন্ঠে নেই। নেই প্রভাবও। তার সব কথা এখন অনুগতরাও শোনে না।

মঙ্গলবার হঠাৎ করে রাইফেল ক্লাব ও ফতুল্লায় দু’টি প্রস্তুতি সভা করে ঘোষণা দেন ৭ সেপ্টেম্বর চাষাঢ়ায় মহা সমাবেশ করার। এ সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ আনার জন্য অনুগত নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। শুধু নির্দেশ নয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে গরম বক্তৃতাও দেন তিনি। সভা দু’টিতে শামীম ওসমান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নায়ককে খলনায়ক বানানো হয়, অপরদিকে খলনায়ককে বানানো হয় নায়ক। জাতীয় ভাবে খেলা হচ্ছে এবং নারায়ণগঞ্জও তার ভিতরে। তিনি বলেন, বিনা কারনে যদি কেউ আমার কর্মিদের উপর হাত দেয় আমি তা সহ্য করবো না। শেখ হাসিনার কর্মিদের উপর হাত দিবে আর আমরা বসে ল্যামনচুস চুষবো তা হবে না।

তিনি আরো বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে ৭৪ জন নেতা কর্মির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। কে দিল এত মামলা। মামলার আসামিদের মধ্যে অধিকাংশই ব্যবসায়ী। সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের দলের কেউ কেউ মনে করেন সে অনেক ক্ষমতাশালী। কিন্তু রাস্তায় নামলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আগামি ৭ সেপ্টম্বর বিশাল আকারে সমাবেশ হবে। ওই দিন প্রমান হবে নারায়গঞ্জের মাটি এবং কর্মিদের রক্ত কত গরম। দেখা যাবে কোন নেতা কত লোক নিয়ে আসতে পারে। সেদিন মানুষ যেন খানপুর পর্যন্ত বসার জায়গা না পায়।

তবে গতকাল সমাবেশে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাঙ্খিত লোক সমাগম হয়নি। খানপুর তো দূরের কথা মিশনপাড়া ছেড়ে যেতে পারেনি জনসমাবেশ। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যেই আলোচনা করতে দেখা গেছে শামীম ওসমানের অনুগতদের। কেন লোক কম হলো, কেন নেতার কথা মতো খানপুর পর্যন্ত সমাবেশ করা গেলো না এসব প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র মতে, সমাবেশের জন্য মাত্র ২ হাজার চেয়ার ভাড়া করা হয়েছে। চেয়ারগুলো সব কানায় কানায় ভরেছিলো ঠিকই তবে আশপাশে দাঁড়ানো লোক সংখ্যা ছিলো খুব কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আওয়ামী লীগের নেতা জানান, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ করে লোক আনতে চেষ্টা করলেও প্রশাসনের কঠোরতায় তা পারেনি অনেকে। এরপরও এলাকার বিভিন্ন মেসে থাকা লোকজন ও বিভিন্ন কল কারখানার শ্রমিকদের কেউ কেউ জোর করে এনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সব চেষ্টা করেও কাঙ্খিত লোক সমাগম ঘটাটে পারেনি শামীম ওসমান।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা হলেও শহরে শামীম ওসমান একাংশের নেতা। অনুগত ও সুবিধাভোগী ছাড়া অন্য কেউ তার ডাকা সভা সমাবেশে যায় না। অপরদিকে এই সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বলা হবে ধারণা করা হয়েছিলো। কেননা মঙ্গলবার সমাবেশের ঘোষণা দেয়ার দুইদিন আগে তার এক পরম আত্মীয় একটি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। এর আগেও তার কয়েকজন অনুগত মামলার আসামী হয়ে জেলে পর্যন্ত গিয়েছেন। বর্তমান প্রশাসন যে তার কথা শুনে না তা তিনি পরিস্কার বুঝতে পেরেছেন। তাই প্রশাসনকে দেখাতেই বিশাল সমাবেশ ডেকেছিলেন বলে চারদিকে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারনে অনুগত অনেক নেতাও এ সমাবেশ এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা গতকালের সমাবেশ নজরদারিতে রেখেছিলেন। কত লোক সমাগম হয়েছে সে হিসেবও তারা ঢাকায় পাঠিয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে ৪ থেকে ৫ হাজার লোকের কথা বলা হয়েছে। (সূত্র: সংবাদচর্চা রিপোর্ট)

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme