স্টুপিড নারীর জন আপনারা কেন আসছেন-ওসি আসলাম

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪
একটি স্টুপিড নারীর জন্য আপনারা কেন এসেছেন? ও ইউএনও এর সাথে খারাপ আচরণ করে, যার তার সাথে চিৎকার চেচামেচী করে! ও কি? জনপ্রতিনিধি, সরকারি দলের লোক।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম ও বক্তবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীকে উদ্দেশ্যে করে এমনই প্রশ্ন করেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন।

তিনি সংবাদ মাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শাহ্ নিজাম ও শওকত আলীকে উদ্দেশ্যে করে আরো বলেন, ও (ফাতেমা মনির) যদি চেঞ্জ না হয় তাহলে আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ওর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এতে যদি আমার চাকরী চলে যায় তাতেও আমি বিন্দু পরিমান আইন প্রয়োগ করতে দিধাবোধ করবো না। জানা গেছে, বুধবার রাত ১২ টায় দুই আসামীকে গ্রেফতার নিয়ে আসে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে বেলী নামে এক নারী ফাতেমা মনিরের বডিগার্ড বলে জানা গেছে। সেই বেলীকে ছাড়াতে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় ছুটে আসেন ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির। তিনি তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে আইনের উর্দ্ধে উঠে আটক আসামীদের ছেড়ে দিতে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে। এক পর্যায়ে পুলিশ তার কথার সাথে একমত পোষন না করলে ফাতেমা মনির দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং নারী হয়েও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের সাথে ধাক্কা ধাক্কি করতে থাকেন।

দায়িত্বরত পুলিশের একাধিক সদস্য তাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকেও আটক করে। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ওসি আসলাম হোসেনের সাথে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা এবং অন ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের সাথে খারপ আচরন করায় তাকে আটক করা হয়েছে। তবে এর আগে বেশ কয়েকবার তার বিরুদ্ধে অশোভন আচরন করার সংবাদ আমরা পেয়েছি। তবে সেই বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা আইনানুগ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারিনি। এমন সময় ফাতেমা মনির ফতুল্লা মডেল থানার সেরেস্তার রুম থেকে জোর পূর্বক এবং পুলিশ সদস্যদের পুনরায় ধাক্কা দিয়ে ওসির রুমে প্রবেশ করে এবং সাংবাদিকদের সম্মুখে ওসি আসলামকে চিৎকার করে বলেন, আমাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে দিন। এইভাবে থানায় বসে থাকতে আমার ভালো লাগছে না। আমি যদি অপরাধ করে থাকি হয় আমাকে কারাগারে প্রেরণ করুন নয়তো ছেড়ে দিন।

অপর দিকে ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরকে ছাড়িয়ে নিতে ফতুল্লা থানায় এসে হাজির হন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. সাইফ উল্লাহ বাদল ও বক্তবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী। তাদের আগমনের পর ওসি আসলাম পুরো ঘটনার বিস্তারিত তাদের খুল বলেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আমি এই থানায় আসার পর কারো কোন তদবির বা সুপারিশ শুনতে হয়নি। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছি। উনি (ফাতেমা মনির) একজন জনপ্রতিনিধি কিন্তু তার যে নৈতিক আচরণ তা আমাকে হতবাক করেছে। উনি যাদের ছাড়িয়ে নিতে আসছেন তাদের মধ্যে তার বডিগার্ড নারী বেলী একজন অপরাধী। সে বিভিন্ন খারাপ পেশার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন অভিযোগ আছে আমাদের কাছে। তিনি কি করে এমন মানুষকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় হট্টগোল করলেন?

টানা ৫ ঘন্টা আটক থাকার পর শাহ নিজাম, এম. সাইফ উল্লাহ বাদল ও শওকত আলী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মুচলেকার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, পুলিশকে ফোন দিলেই পুলিশ আসামী ছেড়ে দিবে এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েও আইন ভঙ্গের কাজ করেছেন আর সে কারণেই তাকে আটক করা হয়েছিলো। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং এমন কাজ পরবর্তীতে করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। নারী সহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি।