রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করছে এমপি সেলিম ও শামীম- আইভী

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪
কোন কথায় আর কাজে আসছেনা। চারদিক থেকে বারংবার সমালোচনা ধেঁয়ে আসলেও রাজাকারপুত্র খালেদ হায়দার খান কাজলের টনক নড়ছেনা। সর্বশেষ শুক্রবার জেলা প্রশাসকের অফিস চত্বরে আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিসি ও এসপির মাঝে রাজাকারপুত্র খালেদ হায়দার খান কাজলের অবস্থান ও বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

একটি বিশেষ গোষ্ঠীর অনুগত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হইচ্ছেনা বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত নেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী একটি অনলাইন পত্রিকাকে বলেছেন- রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাজাকারের ছেলের উপস্থিতি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। আর সেই অনুষ্ঠান যদি হয়ে থাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান তাহলে কোনভাবে আপোষ করারও পশ্ন উঠেনা।

তিনি আরো বলেছেন যে মহান নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো সেই মহান নেতাকে ঘিরে অনুষ্ঠিত কাউন্ট ডাউন অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত রাজাকারের সন্তান খালেদ হায়দার খান কাজলের উপস্থিতি, তাকে দিয়ে বক্তব্য দেয়া, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা কোনটিই নারায়ণগঞ্জবাসী মেনে নিবেনা। আমি ধিক্কার জানাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে।

মেয়র আইভী সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানকে ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন থেকে রাজাকারদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছেন তারা। অথচ এই দুই ভ্রাতৃদ্বয় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। আমি রাতেই জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে বলেছি রাষ্ট্রিয় অনুষ্ঠানে রাজাকারের ছেলে কিভাবে অতিথি হলেন ?

এ দিকে খালেদ হায়দার খান কাজলের বিষয়ে নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা একাধিকবার প্রতিবিাদ করলেও কিছুতেই পিছু হটছে না কাজল। সচেতন মহলের মতে রাজাকার পুত্র খালেদ হায়দার খান কজলের চামড়া গন্ডারের চামড়ায় রূপান্তিরত হয়েছে যার ন্যায় এতো অপমান তার শরীর স্পর্শ করতে পারছে না।

উল্লেখ্য, খালেদ হায়দার খান কাজলের পিতা মরহুম গোলাম রাব্বানী খান শহরে রাজাকার হিসাবে খ্যাত। মুনতাসির মামুন লিখিত ‘শান্তিকমিটি ১৯৭১’ বইয়ে চাষাঢ়া ইউনিয়ন শান্তিকমিটির একজন সদস্য হিসেবে তার নামের উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোলাম রাব্বানী খান ও তার ছোট ভাই চেঙ্গিস খান স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকান লুট করে পথচারীদের মাঝে বিতরন করেছিল।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail