মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা এবং জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ জেলা।

শনিবার(১২ ডিসেম্বর)দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধনটি।

মানববন্ধনে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।সেই সাথে ভাস্কর্যের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক সাথে দাবী করে।

এছাড়াও তারা নিয়োগবিধি সংশোধন সহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের বেতন গ্রেড ১৬তম থেকে যথাক্রমে ১১,১২ ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ করার দাবী করে বলেন,৭০ এর দশকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সকল স্বাস্থ্য সহকারিদের শুধু বসন্ত ও ম্যালেরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এককভাবে প্রদান করেন। স্বাস্থ্য সহকারিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ থেকে বসন্ত ও ম্যালেরিয়া রোগ নির্মূল সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল ইপিআই চালু করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ১ লক্ষ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের কর্মসূচি এককভাবে স্বাস্থ্য সহকারিদের উপর ন্যস্ত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্য সহকারিরা বর্তমানে ১০টি মারাত্মক সক্রামিত রোগের টিকা প্রদান করে থাকি। আমরা স্বাস্থ্য সহকারিরাই ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি ৯মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সফলভাবে প্রদান করতে সক্ষম হই।

তৃণমূল এ স্বাস্থ্য সহকারিদের কাজের অর্জনেই বাংলাদেশ আজ টিকাদানে বিশেষ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে এবং সরকার প্রধান পেয়েছে ৭টি পুরস্কার। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যাকসিন হিরো উপাধিতে ভূষিত করেন। এ সম্মাননাগুলো অর্জনে একমাত্র কারিগর আমরা স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিরা।

তাছাড়া মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশ যেখানে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন সাধারণ ছুটি। আর সে অবস্থায় করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে জনগণকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ আমরা স্বাস্থ্য সহকারিরা টিকাদান করেছি এবং করোনার প্রথম দিকে বিদেশ ফেরতদের তথ্য সংগ্রহ করে আমরা স্ব স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের মহাসমাবেশে আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। যা আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অতিসত্তর আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বাস্থ্য অফিসার স্বপন কুমার দেবনাথ, বন্দর উপজেলা বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সভাপতি আল মামুন,বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সোনারগাঁ এসোসিয়েশনের সোনারগাঁও শাখা র সভাপতি,মোঃ মহিউদ্দিন ভূঁঞা , সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ হোসেনসহ অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিরা।