মুখোশ খুলে পড়লো তার

মুখোশ খুলে পড়লো তার

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪:
বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে থাকেন, অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু আমার লোক হতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে শায়েস্তা করতে আমি একাই যথেষ্ট। জনসম্মুখে এমন বক্তব্য দিলেও চিহ্নিত অপরাধীদের সাথেই সম্পর্ক রাখতে দেখা যায় শামীম ওসমানকে। সম্প্রতি সিএনজি চালককে মারধরের মামলায় দ্রুত বিচার আইনে তার ছেলের সমন্ধি ভিকি গ্রেপ্তার হলে তাকে ছাড়াতে রোববার সচিবালয়ে তদবির করেন তিনি। ওই দিনই ভিকির জামিন হয়।

ছাত্র জীবন থেকেই দল বল নিয়ে চলেন শামীম ওসমান। তার ডাকে অসংখ্য লোক জড়ো হয়। আশপাশের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তার প্রভাবে অঢেল টাকার মালিকও হয়েছেন। ধারণা করা হয় নতুন প্রজন্মও সে দৌড়ে এগিয়ে থাকতে শামীম বলয়ে ভিড়েন। লোক জোগাড়ে দক্ষতার জন্য স্থানীয় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা বাড়ে শামীম ওসমানের। ‘৯৬’র আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের দন্ডমুন্ডের কর্তা বলা হতো তাকে। তিনি যা বলতেন তা-ই করতেন তার অনুসারীরা আর তা মেনে নিতেন অন্য জনপ্রতিনিধি ও নেতারা।

ওই সময়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন শামীম ওসমান ও তার অনুগতরা। ২০০১ এ ক্ষমতায় চার দলীয় জোট সরকার এলে শামীম ওসমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দেশে ফিরলেও আগের মতো তেমন প্রভাব দেখাতে পারেননি তিনি। দলের ভিতরে তার প্রতিদ্বন্দ্বি এখন অনেক। যার কারনে অনেক চেষ্টা করেও জেলা আওয়ামী লীগের তার অনুসারীদের বেশী পদ দিতে পারেননি। সম্প্রতি সোনারগাঁয়ে তার ইঙ্গিতে ৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হলেও তা প্রতিবাদের মুখে পড়ে আতুর ঘরেই ঝিমিয়ে পড়েছে। তবে তার দুরদশা শুরু হয় ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে। এরপর থেকে দলে তার গ্রহনযোগ্যতা কমে যায়। ২০১৬ সালে আইভী ফের মেয়র হলে ২০১৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে শামীম ওসমানের প্রভাব একেবারে তলানিতে ঠেকে। সব শেষ পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ এ জেলায় এলে তার প্রভাব একেবারে শূণ্যের কোঠায় নামে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে এতদিন অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়ে বাহ্বা কুড়ালেও এবার একজন অপরাধীকে ছাড়াতে সচিবালয় পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করেছেন শামীম ওসমান। এমপি পুত্র অয়ন ওসমানের সমন্ধি মিনহাজউদ্দিন ভিকি একজন সিএনজি চালককে মারধর ও সিএনজি ভাংচুর করলে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। কুটুম্বকে বাঁচাতে শামীম ওসমান রোববার সচিবায়ে একাধিক মন্ত্রীর কাছে ধরণা দেয় বলে দৈনিক প্রথম আলো’র একটি উঠে আসে। সংবাদে লেখা হয়েছে, মিনহাজকে (ভিকি) ছাড়িয়ে নিতে গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে আসেন শামীম ওসমান। তিনি একাধিক মন্ত্রীর কাছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করতে পুলিশকে বলেছেন একজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তারা বলেন, এ সময় শামীম ওসমান এ-ও বলেছিলেন যে, জামিন না হলে মিনহাজকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। পরে অবশ্য সচিবালয়ে বসেই শামীম ওসমান নিশ্চিত হন যে তার আত্মীয়ের জামিন হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় রাইফেলস ক্লাবের সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে মিনহাজ উদ্দিনসহ আরও চার-পাঁচজন। তারা অটোরিকশাচালক কামাল হোসেনকে হকিষ্টিক, রড ওলাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আগত করেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশাটিও ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় আহত কামাল হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় নগরের মাসদাইর এলাকার নিজ বাসা থেকে মিনহাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল রোববার নারায়ণগঞ্জের আদালত মিনহাজ উদ্দিন জামিন আবেদন করেন।জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম আবতাবুজ্জামান দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় মিনহাজের জামিন মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আবদুল হাই বলেন, আদালত জামিন মঞ্জুর করার পর গতকালই মিনহাজ মুক্তি পান। মিনহাজ মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার আসামি তায়েফ উদ্দিনের চাচাতো ভাই। নারায়ণগঞ্জের ডিবির পরিদর্শক এনামুল হক বলেন, মিনহাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল,সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তাকে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে অবৈধ পিস্তল নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ভিকির বিরুদ্ধে এর আগে ফতুল্লা ও সদর মডেল থানায় আগে দু’টি মামলা রয়েছে। ফতুল্লায় থানায় মামলা নম্বর ৯৬ (০৩) ১৯। ধারা ১৪৩. ৪৪৭, ৩৮৫, ৫০৬। সদর মডেল থানায় মামলা নম্বর ২৯ (০৬) ১৯। ধারা ১৪৩, ৩৪১, ৩৮৫, ৩৭৯ ও ৫০৬।

সূত্র মতে, ২৯ মার্চ জামতলা এলাকায় এক প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় ভিকির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী আজিজুল হক। গত ১৯ জুন ১৮শ’ পিস চটের বস্তা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভিকির বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা করেন ইমরান আহম্মেদ টনি। এর আগে ১ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৮ টায় পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঝুট নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইয়ামিন কে ধরতে পিস্তল নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় ভিকি। তার কোমরে থাকা পিস্তল উঁচিয়ে বার বার ইয়ামিনকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চেঁচাতে থাকে সে। একপর্যায়ে একজন ছাত্রলীগ কর্মী ভিকিকে সালাম দিলে ভিকি উত্তেজিত হয়ে তাকে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে। পরে এলাকাবাসী ক্ষেপে গেলে পালিয়ে আসে ভিকি। উল্লেখ্য, ভিকি শহরের গুলশান সিনেমা হলের মালিক ফয়েজউদ্দিন লাভলুর ছেলে। লাভলু নারায়ণগঞ্জ জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি। (সূত্র: সংবাদচর্চা রিপের্ট)

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme