বোনের সাথে দ্বন্দ দাঁত ভাঙলো ভাইয়ের

এক যুগ আগে স্বামী হেলালের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী আমেনা বেগম। সেই মামলার পলাতক আসামী হয়ে বিদেশ ছিলেন দীর্ঘদিন। পরে মামলাটির রায়ে আদালত তাকে সাঁজা প্রদান করে। সম্প্রতি সে দেশে আসার পর পুলিশকে জানায় আমেনা। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই পালিয়ে যান তিনি। পরে ফিরে এসে দলবল নিয়ে ওই নারীর খালাতো ভাইকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দেয়।

ঘটনাটি নিয়ে বেশ আলোচনা ছড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর আজিবপুর এলাকায়। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। তবে তার চেয়ে বড় বিষয় দাঁড়িয়েছে যারা ওই যুবকের দাঁত ভেঙে দিয়েছে তারাই উল্টো মামলা করেছে দুটি। তার মধ্যে একটি থানায় অপরটি আদালতে।

মারধরের শিকার আহত আসলাম নামের ওই যুবক সহ তার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। তিনি জানান, ‘১২ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় যাই হঠাৎ হেলাল ও তার ভাই কবির সহ তাদের লোক মাসুম, শুভ, লাড্ডু, বিপ্লব, পারভেজ দলবল আমারে ঘিরা ধরে। এরপর বলে তোর বোন কই ওরে মারমো। আমি বলি নাই। তাই আমারে লোহার রড দিয়া পিটাইতে থাকে। ওরা মাইরা আমার মারির সব দাঁত ভাইঙা দিছে। আমি ঢাকায় ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি আছিলাম। আমরা ওগো নামে থানায় মামলা করছি। কিন্তু আমার মামলা করার আগেই পুলিশ ওগো মামলা নিছে আমাগো নামে।’

ঘটনার বর্ণনায় তার খালাতো বোন আমেনা খাতুন বলেন, ‘১৫ বছর আগে হেলালের সাথে আমার বিয়ে হয়। আমাদের ১৪ বছরের একটা ছেলে আছে। ওই সময় থেকে সে আমাদের দেখভাল করে না। তখন আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলার করার সময় সে বিদেশ চলে গেছে। পরে মামলাটা আদালত থেকে রায় হইছে। রায়ে হেলালরে আদালত ৫ বছরের সাঁজা দিছে। কিছুদিন আগে ও আসছে। আমি খবর পাইয়া পুলিশরে খবর দিছি। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই ওর ভাই কবির ওরে লুকায় দিছে। কারণ ওর ভাই পুলিশের লোক হিসাবে এলাকায় অনেক পরিচিত। এরপর পুলিশ আসছে কিন্তু হেলাল পলায় গেছে। পুলিশ যাওনের পর দলবল নিয়া আমার খালাতো ভাইয়ের বাড়ির সামনে যায়। এরপর সেখানে আমার ভাইরে পাইয়া মাইরা দাঁত ভাইঙ্গা দিছে। সাঁজা প্রাপ্ত আসামীগো এতো ক্ষমতা কেন ?। দেশে কি আইন নাই!। আমি এর বিচার চাই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান জানান, মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।