বিষাক্ত জিনিস বাংলাদেশে ঢুইকা পড়ছে-শামীম ওসমান

মালেয়শিয়াতে করোনাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেখানে করোনার সবধরণের টিকাও চলে গেছে। কিন্তু সেখানেও করোনার কারনে একন জরুরি অবস্থান করা হয়েছে। সবাই ভাবছে টিকা আসলো, আরো ভালো হয়ে গেলাম! বিষয়টি আসলেও মোটেও সেরকমটি নয় বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, ফাইজারের টিকা প্রথম ডোজ দেয়ার ২১ থেকে ২৮দিন পর দেয়া লাগে। ফাইজারের তুলনায় বাংলাদেশ যে টিকা নিয়ে আসছে সেটির সাইড এফেক্ট কম, আর সেটি দেয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ সম্ভবত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর।

সাবেক এই ছাত্র নেতা আরো বলেন, ‘করেনার মতো বিষাক্ত জিনিস বাংলাদেশে ঢুইকা পড়ছে। চোখে দেখা যায়। করোনাকে প্রতিরোধ (প্রোটেক্ট) করতে পারবে। কিন্তু এই বিষাক্ত পদার্থগুলি যারা দেশটাকে ধ্বংস করতে চায়, ওরা আনাচে-কানাচে ঢুকে পড়েছে। কলেরা, পোলিও, যক্ষার মতো করোনাও চলে যাবে। কিন্তু এই বিষাক্ত পদার্থগুলি যারা আজ সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, আফগানিস্তান সৃষ্টি করেছে, তারা যদি বাংলাদেশকেও একই অবস্থায় নিয়ে যায়, তাহলে আমরা আমাদের নেক্সট জেনারেশনের কাছে একটা দেশ রেখে যেতে পারবোনা।

নারায়ণগঞ্জের বিষয় তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্সের প্রায় ২৫ ভাগ অর্থ যোগান নারায়ণগঞ্জ জেলা হওয়া সত্ত্বেও নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে এই জেলা এটির কারণ হিসেবে এমপি শামীম ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জকে সবাই বঞ্চিত করে গেছে।

করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরবর্তী অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে করোনা মোকাবেলা করার সময় আমরা যেটি করেছি সেটি দায়িত্ব ছিল। কেউ দায়িত্ব অবহেলা করলে তার বদনাম হওয়া উচিৎ। জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাদের দায়িত্বের বাইরেও আরো কিছু লোক দায়িত্ব পালন করেছেন। একেবারেই নারায়গঞ্জে হতাশার শেষ সময়ে চলে গিয়েছিলাম, যখন আর কিছুই করার নেই; যখন বাবার লাশ ছেলে ধরছে না, বাবুরাইলে গিটারিষ্টের লাশ সারারাত পড়ে ছিলো, আরো কঠিন দৃশ্য, এটি দ্বারা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে আমরা কতখানি অপারগ, কতখানি স্বার্থপর। এরবাইরে আরেকটি দৃশ্যও দেখা গেছে। করোনায় সাংবাদিকরাও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে।

শামীম ওসমান বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানার নামে নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরি করার প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তাঁর নামে কোন কিছু করতে দিতে চাননা। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পাশে যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সেটি গত দেড় বছর যাবৎ খালি পড়ে আছে। আমি আইনমন্ত্রীকে বলেছি সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করার জন্য। সেটিকে হার্টের চিকিৎসার জন্য স্পেশালাইজড হাসপাতাল করা হোক। আমি আশা করি এবছর ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসতে পারবো।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সুপারিনডেন্ট ডা. আবুল বাশারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীষ সাহা, জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বিধান চন্দ্র পোদ্দার, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা.সামসুদ্দোহা সঞ্চয়৷

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা উদ্বোধনের ফলে আগে যেখানে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগতো, সেখানে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ৩০ মিনিটের মধ্যে সঠিক রিপোর্ট দেয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির আরএমও ডা.সামসুদ্দোহা সঞ্চয়। র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার পাশাপাশি পিসিআর ল্যাবেও নমুন পরীক্ষা চলবে।