সকল উৎসবে আমরা এক: জায়েদুল আলম

‘৬৪ জেলার মানুষ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে এবং ৬৪ জেলার সংস্কৃতি এখানকার মানুষের মধ্যে রয়েছে। আপনারা জানেন বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় সীমিত আকারে আমরা দুর্গোৎসব উদযাপন করছি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চাষাঢ়া শ্রী শ্রী গোপাল জিউর বিগ্রহ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

জেলা পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জে সকল ধর্মের, বর্ণের মানুষ বসবাস করে। এখানে সবার মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিদ্যমান। নারায়ণগঞ্জে কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদের স্থান নেই। নারায়ণগঞ্জে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির স্থান নেই। কোনোদিন ছিলো না আর থাকবেও না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আন্তরিকতা, উৎসবের আমেজের কোনো কমতি নেই। আমি মনে করি, এটা একটি অন্যান্য দৃষ্টান্ত। আর কিছুদিন পর আগামী ৩০ তারিখে ঈদে মিলাদুন্নবী আসছে। এই অনুষ্ঠানও আমরা সবাই সুন্দরভাবে উৎযাপন করবো। দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর থেকে যত ধরণের সহযোগিতার প্রয়োজন তা করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। ধর্ম, বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে সকল উৎসবে আমরা এক, আমরা বাঙালি, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী তা প্রমাণ করবো।’

নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, ‘প্রতিদিন পূজার এক অংশে আমরা করোনাভাইরাস মহামারির সময় কাজ করতে গিয়ে যে সকল চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ মারা গেছেন এবং এখনো যারা কারোনা আক্রান্ত আছেন তাদের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। এবার করোনার কারণে ভীড় কম করে দিনের আলোতে দশমীর কার্যক্রম শেষ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। একই সঙ্গে দশমীর জন্য বিভিন্ন মন্ডপকে তাদের জায়গা ভাগ করে দেবো যাতে ভীড় না হয়। এর জন্য আমি পুলিশ সুপারের কাছে অনুরোধ করবো, আগামীকাল দশমীর দিন দুপুর ১২ টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত শহরের মূল সড়কগুলো পরিষ্কার থাকে এবং কোনো অতিরিক্ত যানবাহন না থাকে। যাতে আমরা সুষ্ঠুভাবে দশমী উদযাপন করতে পারি।’

উক্ত আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহউদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন, মহানগরের সভাপতি অরুণ কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক উত্তম সাহা, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষ্ণ আচার্য, লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা প্রমুখ।