না’গঞ্জের পরিবর্তন এমপি মেয়র নয় করছে পুলিশ সুপার

না’গঞ্জের পরিবর্তন এমপি মেয়র নয় করছে পুলিশ সুপার

মো. মোমিনুল ইসলাম:
পরিবর্তন বুঝি একেই বলে। নারায়ণগঞ্জের চির চেনা রূপ আকস্মিক ভাবে যে হারে পরিবর্তন হচ্ছে তা এখন চোখে পরার মতো। বিগত সময় নারায়ণগঞ্জের যে অবস্থা ছিলো, সেই অবস্থাকে আজ অতীতে ঠেলে নবরূপে নারায়ণগঞ্জকে সংস্কার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের এই নব সংস্কার কোন জনপ্রতিনিধি কিংবা স্থানীয় কোন নেতৃবৃন্দদের হাত ধরে নয়। এ সংস্কার এসেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে।

জানা যায়, বিগত সময় নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করে গিয়েছিলেন তাদের যোগ্যতা নিয়ে কখনো কোন প্রশ্ন উঠেনি এবং আগামীতেও প্রশ্ন উঠবে বলে মনে হয়না।

যারা এই নারায়ণগঞ্জের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, তারা ছিলেন সচেষ্ট, সৎ ও আপোশ হীন। তবে নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তন করার জন্য যে সকল সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন ছিলো এবং যে সকল ভূমিকা পালন করলে চির চেনা এই নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তন সাধাণ করা সম্ভব হতো, তারা সেই সকল দায়িত্ব পালন করতে বরাবরের মতো ব্যার্থ হয়েছেন এমনই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বোদ্ধামহলের।

খবর নিয়ে আরো জানা যায়, অতীত নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো মাদক, সন্ত্রাসী তৎপরতা, ভূমিদস্যুতা সহ নানা বিধ অপরাধ কর্মকান্ড। বরাবরের মতো এই নগরির সচেতন নাগরিকরা সে সকল অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে কিংবা এ সকল বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করতে প্রচন্ড রকম ভয় পেতো। স্থানীয়দের এই ভয়ের কারনে ধীরে ধীরে সমগ্র নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

তবে এসকল ঘটনা আজ শুধুই অতীত। বেঙের ছাঁতার মতো গজিয়ে উঠা ছোট বড় মাদক স্পোট, ভূমিদস্যুদের অপতৎপরতা, ছিনতাই রাহাজানি সহ ভিন্ন ভিন্ন সন্ত্রসী গোষ্ঠীগুলোর লাগম টেনে ধরতে সক্ষম হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিংহাম খ্যাত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের সাত মাসের মধ্যেই এই অসাধ্যকে সাধাণ করেছেন এই পুলিশ সুপার।

১৫ জুন (শনিবার) চাষাড়া কেন্দ্রী শহীদ মিনারে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। সংবাদিক সম্মেলনে হারুন অর রশীদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত মাদক কারবারি ও মাদকের রাঘোবোয়ালদের গ্রেফতার করতে এখনো সক্ষম হয়নি আমরা। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যারা মাদকের বেচা-বিক্রি করছে এবং পুলিশ যাদের গ্রেফতার করতে পারছে না সে সকল মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জবাসী সহ সাংবাদিকদের কাছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশের বিভিন্ন উদ্যোগে এই জেলার সাংবাদিকরা আমাকে এবং সমগ্র পুলিশ প্রশাসনকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। আগামীতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

নগরির বোদ্ধামহল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বর্তমান তৎপরতার বিষয়ে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করে বেঙ্গল রিপের্ট২৪.কম কে বলেন, এই জেলায় অনেক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ সহ সংসদ সদস্য ও মেয়র রয়েছেন। একেকজন জনপ্রতিনিধি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এই জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। তবে উন্নয়ন সাধাণ করলেইতো হবে না। উন্নয়নের পাশাপাশি শৃঙ্খলার দিকেও নজর রাখতে হবে। নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদম রসুল পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই নগরির দৃশ্যমান উন্নয়ন সকলের চোখে পরে। সে সকল উন্নয়ন ধূলিসাধ হয়ে যাচ্ছিলে এই জেলার সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যুতা ও মাদক কারবারিদের কারনে। ধীরে ধীরে উন্নয়নশীল এই নারায়ণগঞ্জের যুবসমাজ ভয়াল মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হয়ে অন্ধকারে ধাবিত হয়ে যাচ্ছিলো। এ সকল অসঙ্গতিগুলো কিছুতেই দুর করা সম্ভব হচ্ছিলো না। যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তারা বারংবার মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হুংকার দিলেও তাদের সভা-সমাবেশে সে সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি এই নগরির সধারণ মানুষদের ভাবিয়ে তুলে। সেই সময়ই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে আগমন ঘটে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন রশীদের। হরুন অর রশীদের হাত ধরেই ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে নারায়ণগঞ্জের চির চেনা সেই রূপ। বোদ্ধামহল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকাতা যাতে বজায় থাকে সেই দিকে তিনি যাতে সচেষ্ট থাকেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme