গলায় চাকু, যা আছে বের করে দে!

প্রকাশ্যেই রামদা ও চাপাতি দিয়ে মহরা দিচ্ছে, টাকার প্রয়োজন তাই হুমকি দিয়েই করছে ছিনতাই। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আগত বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রতিদিনই বিরম্বনায় পড়ছে। পরিবহন থেকে নামতেই চারদিক থেকে ঘিরে রামদা ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নিচ্ছে নগদ টাকা ও মূল্যবান মোবাইল ফোন। একদিন দু’দিন নয়, হরহামেশাই হচ্ছে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা। অভিযোগ করেও মিলছেনা এর প্রতিকার। জেলা পুলিশের কর্তারা বলছেন জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম। কিন্তু দূর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষ বলছে খুজে পাওয়া যায়না পুলিশ।

নগরীর চাষাঢ়া এলাকায় বেড়েছে ছিনতাইয়ের উপদ্রব। বিভিন্ন বয়সী যুবক ও যুবতীরা পরিকল্পিতভাবে প্রতিদিনই অবস্থান নিচ্ছে চাষাঢ়া রেল স্টেশন, মহিলা কলেজ, কলেজ রোড ও চাষাঢ়া শীতল কাউন্টারের সামনে। দূর দূরান্ত থেকে আগত সাধারণ মানুষদের অনুসরণ করে ঘিরে ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নিচ্ছে নগদ অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ মঠোফোন। প্রকাশ্যে ছিনতাই করলেও ওদের কাছে ধারালো অস্ত্র থাকায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাষাঢ়া রেল স্টেশন এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী মো. শাকিল, জুয়েল ও সাগর ওরফে দাঁত ভাঙ্গা সাগরের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র একটি ছিনতাইকারী চক্রে। এ চক্রের সদস্য রনি, আলী, জুবায়ের ও বিশাল। প্রতি রাতে চাষাঢ়া, কলেজ রোড, চাঁনমারীসহ আরো বেশ কয়েকটি এলাকায় এদের নেতৃত্বে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র এই ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়েছেন বহু মানুষ। গত শুক্রবার এক রাতেই বেশ কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কেড়ে নেয়া হয়েছে তাদের কাছে থাকা দামি মোবাইল ফোনসহ নগদ অর্থ।

শুক্রবার দিবাগত রাতে শেরপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পরে মারুফ নামের মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। মারুফ সাইনবোর্ড হয়ে সিএনজি যোগে চাষাঢ়া আসতেই ৪ থেকে ৫ জন তার ঘারে রামদা ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায় নগদ অর্থ। মারুফ জানিয়েছে, কোন কিছু বুঝার আগেই ওই ছিনতাইকারীরা তার গলায় চাকু ধরেছিল। একই রাতে একই ছিনতাইকারী দলের খপ্পরে পরে শাকিল নামের স্কুল পড়ুয়া আরেক শিক্ষার্থী। গাজীপুরের বাসিন্দা শাকিলও সাইনবোর্ড থেকে সিএনজি যোগে চাষাঢ়ায় এসেছিল। দলবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ধারালো রামদা হাতে শাকিলকে ঘিরে ধরে যা আছে বের করে দিতে বলে। ওই রাতে শাকিলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৩’শ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় চক্রটি।

মারুফ ও শাকিলসহ আরো বেশ কয়েকজন পথচারী ও পরিবহন যাত্রীদের চাষাঢ়া এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের দৃশ্য দেখেছেন এমন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চক্রটির সদস্যরা প্রত্যেকেই চাষাঢ়া রেল স্টেশনে থাকে। এরা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে প্রতি রাতেই এখানে চাঁদাবাজী ও ছিনতাইয়ের কাজ করে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মো. শাকিল, জুয়েল, সাগর ওরফে দাঁত ভাঙ্গা সাগর, রনি, আলী, জুবায়ের ও বিশাল তাদের সাথে থাকা এক অল্পবয়সী তরুনীকে নিয়ে প্রতি রাতেই ছিনতাইয়ের জন্য চাষাঢ়া এলাকায় ফাঁদ পাতে। এদের কাছে থাকে বিভিন্ন সাইজের চাপাতি, ছেনতা, লোহার রড, হকিষ্টিকসহ রামদায়ের মতো অস্ত্র । ওদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই।

এক অনসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালের জুন মাসে চাষাঢ়া রেল স্টেশনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলায় শাকিল, জুয়েল, সাগর ওরফে দাঁত ভাঙ্গা সাগর ও আলী চার্জশীটভূক্ত আসামী।

ছিনতাইকারী চক্রের লিডার মো. শাকিল জামালপুর রেল লাইন বস্তি এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে, জুয়েল লালমনিরহাট হাজীপাড়া গ্রামের মো. শফিক ওরফে ছকমলের ছেলে, সাগর ওরফে দাঁত ভাঙ্গা সাগর নরসিংদী শিবপুর কলেজ রোড এলাকার মো. হেলিম ওরফে জালাল মিয়ার ছেলে। ছিনতাইকারী আলী মুন্সিগঞ্জ টংগীবাড়ী ধানকোরা এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে।

চাষাঢ়া রেল স্টেশন এলাকার মজিদ নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মো. শাকিল, জুয়েল, সাগর ওরফে দাঁত ভাঙ্গা সাগর, রনি, আলী, জুবায়ের ও বিশালরা ভয়াবহ মাদক সেবী। এরা প্রতি রাতে স্টেশনে জুয়া খেলায় মগ্ন থাকে। টাকা ফুরিয়ে গেলেই ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে। এদের সাথে অল্পবয়সী এক তরুণী আছে। ওই তরুনী যৌনতার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন চালকদের স্টেশনে নিয়ে এসে সহযোগীদের সহায়তায় মারধর করে ছিনিয়ে নেয় নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন।

র‌্যাব-১১ এর স্কোয়াড্রন লিডার এ কে এম মনিরুল আলম সংবাদচর্চাকে জানিয়েছেন, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের প্রতিরোধে দীর্ঘদিন থেকেই র‌্যাব কাজ করছে। নগরীর যে সকল এলাকাগুলোতে ছিনতাই প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে র‌্যাবের টহল অভিযান জোরদার করা হবে।