ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফের বেরিয়ে আসছে অজানা নানান রহস্য

ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফের বেরিয়ে আসছে অজানা নানান রহস্য

বেঙ্গল রিপোর্টঃ
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হবার পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমর ২ বছরের কম সময়ের মধ্যেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন অর্থাৎ কামিয়েছেন অঢেল সম্পত্তি। আর অঢেল সম্পত্তি অর্জনের পিছনে রয়েছে অজানা নানান রহস্য। কাঁচপুরের সিনহা গ্রুপ থেকে প্রতি মাসে দেড় কোটি টাকা চাঁদা এবং কাঁচপুর স্ট্যান্ডের ফুটপাতে ও ছিন্নমূল দোকান থেকে প্রতি মাসে বিভিন্ন হারে আদায়কৃত চাঁদার টাকা, যা মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সপরিমান বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। জায়গা-জমির সালিশীর ক্ষেত্রে তিনি ৩-৫ লাখ টাকা কন্ট্রাক্টে নিয়ে থাকেন এবং সে অনুযায়ী মীমাংসা করে থাকেন। ঝামেলাপূর্ণ জায়গা কম দামে কিনে দখল নেন বা পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে নিজের নামে কম দামে কিনে নেন বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে তার চাঁদা আদায়ই তার অঢেল সম্পত্তি অর্জনের মূল উৎস বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সোনাপুরে ১টি ৬তলা, ১টি ৫তলা ও ১টি ৩লা বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে জানানো হয়েছে। ঢাকায় কেনা দামী ফ্ল্যাটে বাস করা ছাড়াও ৭৫ লাখ টাকা দিয়ে কেনা বিলাসবহুল হেরিয়ার মডেলের গাড়ি করে চলাফেরা করে থাকেন তিনি। ইউনিয়নের পূর্ব বেহাকৈরে সুবিশাল জায়গা জুড়ে নিতু এগ্রো ফার্ম গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। নামে বেনামে তিনি আরও অঢেল সম্পত্তি এভাবে গড়ে তুলেছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

এই অল্প সময়ের মধ্যে এতকিছুর মালিক বনে যাওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, বিশিষ্টজন সহ ভোটারদেরকে তিনি ভাবিয়ে তুলেছেন। প্রকাশ্যে তার এ ধরণের সম্পদের খবর সবাই জানলেও অপ্রকাশিত কি পরিমাণ সম্পদের মালিক তিনি হয়েছেন তা সকলের ভাবনার বাইরে এবং বিষয়টি এখন কাঁচপুরের জনতার আলোচনার টেবিলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভের দানা বাধছে সর্বত্র এবং একজন নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যানের এভাবে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য যথেষ্ট মানহানীকর এবং এটা দলের জন্য একটা অশনী সংকেত বয়ে আনতে পারে বলেও আশংকা করছেন দলের শুভাকাঙ্খিরা। নৌকার প্রার্থী হয়ে দলীয় নাম পরিচয় ব্যবহার করে একদিকে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন আর অপরদিকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়ে দলের বিশাল ক্ষতি হচ্ছে বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যেমনভাবে সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকায় ভোট নিয়েছিলেন ঠিক তেমনি বিজয়ী হবার পর তিনি সম্পদ গড়ার দিকে নয় বরং জনকল্যাণে বেশী মনোযোগ দিবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন ইউনিয়নের সর্বস্তরের সকল ভোটাররা।

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme