আড়াইহাজারে খাবার হোটেল রেষ্টুরেন্টেগুলোতে ভেজাল খাবার

আড়াইহাজারে খাবার হোটেল রেষ্টুরেন্টেগুলোতে ভেজাল খাবার

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে খাবার হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলোতে ভেজাল খাবার বিক্রয় প্রশাসন নীরব, এ যেন দেখার কেউ নেই।

যেখানে টাকার বিনিময়ে খাবার পাওয়া যায় তাকেই হোটেল রেষ্টুরেন্ট বা খাবারের দোকান বলে। ঘরের বাইরে থাকলে, ভ্রমণকালে অথবা অফিস থেকে বাসা দূরে হলে এবং সময় বাঁচাতে হলে নিয়মিত হাতের কাছে খাবার পাওয়া যায় হোটেল রেষ্টুরেন্টে বা খাবারের দোকানে।

কিন্তু যারা এসব হোটেলে খাচ্ছেন তারা কি জানেন টাকার বিনিময়ে কি খাচ্ছেন বা হোটেল ব্যবসায়ীরা কি খাওয়াচ্ছেন। অধিকাংশ হোটেলে খাওয়ানো হচ্ছে অপরিস্কার ভেজাল ও পচা-বাসী খাবার। বা হোটেলে বসে খাওয়ারও নেই কোন পরিবেশ। আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলোতে ভেজাল খাবার বিক্রয় হচ্ছে দেদারছে।

আড়াইহাজার থানা ও উপজেলাসহ ভূমি অফিসের পাশেই বিভিন্ন নামের হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলোতেই প্রতিদিন অত্র এলাকার ছাত্র-ছাত্রী চাকরীবিদসহ অসংখ্য লোকসমাগম হয়। আর এ সুযোগে হোটেলগুলোতে ভেজাল ও পচা-বাসী খাবার বিক্রি হচ্ছে অবাধে। আর সে সুযোগে হোটেলের মালিকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

বর্তমানে ভেজাল বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব খাবার খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। আড়াইহাজার সদরের বাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। এখানে রয়েছে স্কুল-কলেজ রয়েছে সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসেন খাবার খেতে। এদের মধ্যে অনেকেই আড়াইহাজারের বাহির থেকে আগত তাই কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।

সরেজমিনে দেখা যায় হোটেলগুলোর পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর,নোংরা পরিবেশ,পচা-বাসী,ভেজাল খাবার ক্রেতাদের মাঝে পরিবেশন ও বিক্রি করা হচ্ছে। রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় থাকায় মশা-মাছি,ধুলা-বালি পড়ছে অবাধে। র্দুগন্ধ,ময়লা পরিবেশ,রান্না ঘর স্যাঁতস্যাঁতে থাকে এ যেন দেখার কেউ নেই। অথচ হোটেল ব্যবসার জন্য বেশ কিছু নিয়ম-কানুন পালন করতে হয়।

আড়াইহাজার কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যেসব হোটেলে খাবার খাই সেগুলোতে আসলে খাওয়ার কোনো পরিবেশ নেই। বাধ্য হয়ে খেতে হচ্ছে। এসব হোটেলের খাবার পরিবেশনের মান যে কতটা নিকৃষ্ট তা একমাত্র ভূক্তভোগীই বলতে পারবেন। হোটেলগুলোর অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে আড়াইহাজারের বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রফিক নামের এক রিকশাচালক বলেন, সারাদিন রিকশা চালাই, খিদে লাগলে আর পরিবেশনের কথা চিন্তা করিনা।

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বলেন, যেমন-(১) হোটেল ব্যবসায়ীকে প্রথমেই খাবারের মূল্যসহ একটা তালিকা তৈরি করতে হবে যাতে ক্রেতারা এসে খাবারের দাম দেখে তাদের সাধ্য অনুযায়ী খাবার র্অডার করতে পারে।

(২) হোটেলে সব সময় ভালো জিনিস রাখতে হবে।ক্রেতাদের কাছে কখনও খারাপ জিনিস বিক্রি করা উচিত হবে না। টাটকা মাছ,মাংস,শাকসবজি রান্না করতে হবে। ভালো মানের মসলা ব্যবহার করতে হবে।

(৩) দোকান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে যেন হোটেলের আশপাশ স্যাঁত স্যাঁতে না হয়। চেয়ার টেবিল,গ্লাস,প্লেট,চামচ পরিস্কার রাখতে হবে। দোকানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। একজনের খাবার পর প্লেট,গ্লাস ভালো করে পরিস্কার, গরম পানি ও গুঁড়া সাবান দিয়ে ধুতে হবে। টেবিল পরিস্কার করে রাখতে হবে।

(৪) হোটেলের সর্ব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিস্কার প্লেট,গ্লাস,চামচ,পরিবেশন করতে হবে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ হোসেন বলেন, খাবার রেস্টুরেন্টগুলোতে বাসি-পঁচা ও নোংরা পরিবেশে যাদেরকেই পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

এছাড়াও কেউ যদি অভিযোগ করে এখনো বাসি-পঁচা ও নোংরা পরিবেশে খাবার রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেন তাদের বিরুদ্ধে আইননত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




Copyright © 2019 All rights reserved bengalreport24.com
Design BY NewsTheme