আবারো তালেবান ঝড়

ক্ষমতায় থাকাকালীন ৫ বছরে (১৯৯৬-২০০১) আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রিত অংশে কঠোর শরিয়া আইন চাপিয়ে দিয়েছিল তালেবান প্রশাসন। নারীদের যে কেবল পড়ালেখা বা চাকরি করার সুযোগ ছিল না তা-ই নয়, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া তারা ঘরের বাইরেও বের হতে পারতেন না।

জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড বা চাবুক মারা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পশ্চিমা চলচ্চিত্র ও বই ছিল নিষিদ্ধ। অনেক সাংস্কৃতিক নিদর্শনও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল।

দেশটিতে ইসলামি বা মহানবী (স) এর দর্শন প্রতিষ্ঠা হোক সেটা মুসলিম বিশ্ব চাইবে। কিন্তু ঐ ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। পূর্বের অভিজ্ঞতা নিয়েই হয়তো অসংখ্য আফগান দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। এটা নিয়ে বিশ্বের তালেবানি সমর্থকরা পুরোই নিশ্চুপ।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব-অভিজ্ঞতা পায়নি বলে পরাজয় মেনে নিয়ে পিছু হঠেছে। কিন্তু আমেরিকা! সোভিয়েতকে দেখে তাহলে কী শিক্ষা নিল? প্রশ্ন থেকে গেল! পৃথিবীর প্রতিটা অঞ্চল নিয়ে আমেরিকার কম করে হলেও আগাম ২০ বছরের মাস্টার-প্ল্যান থাকে, এটা বুঝতে বুদ্ধিজীবী হওয়া লাগে না। আমেরিকার আফগানিস্তান ত্যাগ নূতন কর্মপরিধির একটা ঠাণ্ডা পরিকল্পনা হলে হতেও পারে! যেহেতু বিষধর সাপ থেকেও বিষাক্ত ওদের পলিসি।

পাশাপাশি ভারতকে কোথায় রেখে গেল আমেরিকা! প্রশ্নটা সমীচীন। কেননা তালেবানদের ১৯৯৬-২০০১ সালের শাসনামলে যে চারটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল তারমধ্যে পাকিস্তান একটি। সুতরাং তালেবান-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। বৃটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করে ইমরান খান পূর্ব-পর্যন্ত পাকিস্তান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিতীয়বার খুব কমই ভেবেছে এবং অপরিক্বতার ছাপটাই বেশি। কিন্তু ইমরান সিদ্ধান্ত গ্রহনে কিছুটা সময় নেন এবং তার সিদ্ধান্তে কিছু চতুরতা লক্ষণীয়। সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভারত পাকিস্তানের উল্টো। ভারত সর্বদা নাড়ি-কাটা সিদ্ধান্তে পরিপক্ব।

তবে সর্বশেষ তালেবান ইস্যুতে ভারত পুরোটা বেকায়দায় রয়েছে। যদি আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা নিশ্চিত হয় তবে ভারত হবে চরম ছন্নছাড়া। শুধু ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও ভারতীয় উপমহাদেশে তালেবানি লেবাসে যদি উগ্রতা ছড়িয়েই পড়ে তবে চীন হবে এই উপমহাদেশের গেম-প্ল্যানার। মিয়ানমারের দিকে খেয়াল করলেই চীনের আসল-রূপ বুঝা যায়। এদিকে চীন বাংলাদেশ নিয়েও চরম আগ্রহী।

তাহলে প্রশ্ন হলো- ভারত কাকে নিয়ে টিকে থাকবে? অনেকে বলবে সৌদি আছে আবার সংযুক্ত আরব আমিরাত আছে। এই দেশ দুটির সাথেও তালেবানের দহরম-মহরম। চীনের সাথে তালেবান প্রতিনিধিদের এ পর্যন্ত বহুবার আলাপ হয়ে গেল। চীনের হাতে প্রত্যক্ষ শক্তি পাকিস্তানের পাশাপাশি এখন যোগ হলো সোভিয়েত ও আমেরিকার সাথে অপরাজেয় তালেবান শক্তি।

ন্যূনতম বিশ্লেষণেই বুঝা যায় তালেবান এখন চীনের তুরুপের তাস। আর কিছুদিন পর ভারত শুধু তথাকথিত জঙ্গি দমনে চরম ব্যস্ত সময় কাটাবে হয়তো! ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিন্যান্টে তালেবান কেন্দ্রীয় রাজনীতি শুরু হলো বলে!