সূত্রহীন মামলার রহস্য উদঘাটন না’গঞ্জ সিআইডির

বেঙ্গল রিপোর্ট২৪
দীর্ঘ ১৯ মাস পর সিদ্ধিরগঞ্জ নিমাইকাশারি বাজার এলাকার সূত্রহীন (ক্লু-লেস) নাজমা আক্তার ঋতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিআইডি। উন্নত প্রযুক্তির আর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ (সি.আই.ডি) এর সার্বিক সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা দীর্ঘ প্রয়াসের পর হত্যা মামলার রহস্যটি উদঘাটন করে।

জানা গেছে, ১১ ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার) তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ নারায়ণগঞ্জ সিআইডির চৌকশ একটি টিম রাজধানীর বংশাল মালিটোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘাতক লুৎফর রহমান (৩২) কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ঘাতক লুৎফর রহমানকে হত্যার বিষয়ে প্রাথমিজ জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার বিষয়টি অকপটে স্বীকারে এবং স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করার কথা জানায়।

ঘাতক লুৎফর রহমানের প্রদত্ত ১৬৪ ধরার জবানবন্দীতে হত্যার লৌহর্ষ ঘটনা বেরিয়ে আসে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ (সি.আই.ডি) মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে হত্যার ঘটনায় আসামীর জবানবন্দীর আংশিক কিছু তথ্য বেঙ্গল রিপোর্ট২৪ এর সাথে আলোচনা করেছেন।

তিনি আসামির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান, নাজমার সাথে তার পরিবারের তেমন যোগাযোগ ছিল না। সে টেইলার্সের কাজ করতো। টেইলারি মেশিনের একটি যন্ত্র কিনতে গিয়েই রাজধানীর নবাবপুরে নাজমার সাথে পরিচয় হয় লুৎফরের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। লুৎফরের নাম পরিবর্তন করে নাদিম বলে সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয় তারা। সেখানে তারা বসবাস করতো। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। এক রাতে টিভি বন্ধ করা নিয়ে তুমুল ঝগড়ার এক পর্যায়ে সিমেন্টের তৈরি লাঠি আকারের একটি বস্তু দিয়ে নাজমার মাথায় বাড়ি দেয় লুৎফর। এতে মারা যায় নাজমা। লাশ ঘরে রেখেই দরজা তালা মেরে চলে যায় সে। দুইদিন পর লাশ পঁচা গন্ধ বের হলে আশেপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এর চারদিন পর ২০১৮ সালের ২৬ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নাজমার প্রাক্তন স্বামী নজরুলকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই।

আগস্টে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হলে আসামি নজরুলকে খুঁজে পায় না পুলিশ। দীর্ঘ সময় নানাভাবে তদন্ত করেও কোন ক্লু পাচ্ছিলো না। একটি পাসপোর্টের সূত্রধরেও তদন্ত চালায় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। এক পর্যায়ে নাজমার ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে নাজমার এক প্রেমিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। তবে তার সাথেও হত্যাকান্ডের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এই কললিস্টের সূত্রেই লুৎফরের কাছে পৌছায় সিআইডি। পরে গত মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় পর হত্যাকান্ডের মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়। সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।